চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
| |

বাড়িতে বসে সহজেই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় জেনে নিন

অল্প বয়সে চুল পড়ে যাওয়া এটি নারী এবং পুরুষের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আজকাল প্রায় একটি কথায় সবার মুখে শোনা যায় সেটি হচ্ছে আমার সব চুল পড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ১০০টি চুল  পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার বলেছেন গবেষকরা। আপনি চুল পড়া সমস্যা নিয়ে লড়াই করছেন? আপনি যখন চুল আঁচড়ান, শ্যাম্পু করেন, চুলে তেল লাগান তখন…

ল্প বয়সে চুল পড়ে যাওয়া এটি নারী এবং পুরুষের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আজকাল প্রায় একটি কথায় সবার মুখে শোনা যায় সেটি হচ্ছে আমার সব চুল পড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ১০০টি চুল  পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার বলেছেন গবেষকরা। আপনি চুল পড়া সমস্যা নিয়ে লড়াই করছেন? আপনি যখন চুল আঁচড়ান, শ্যাম্পু করেন, চুলে তেল লাগান তখন চিরুনি আর আপনার কাপড়ে অনেক চুল পড়ে যায় সেই সময় আপনার অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। আমার কেন  চুল পড়তেছে? চুল পড়া বন্ধ করার উপায় কি? কোনোভাবেই আপনারা চুল পড়ার সমাধান খুঁজে বের করতে পারেন না।

বিভিন্ন কারনে আমাদের চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায় তারমধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। এই দূষণের ফলে ত্বকের উপর প্রভাবে চুল পড়া বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যটিকে আপনি কিভাবে সমাধান করার চেষ্টা করবেন? আপনাদের মধ্যে অনেকে আছে চুল পড়া করতে বিভিন্নরকম  ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু,কন্ডিশনার,তেল ব্যবহার করে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে তবুও চুল পড়া রোধ হয় না। এজন্য আপনার প্রাকৃতিক উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।

 

চুল পড়ার কারন কি?

চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারন হতে পারে হরমোনজনিত সমস্যা। চুল পড়ার বিভিন্ন রকম কারন হতে পারে। বেশ কয়েকটি চিকিৎসা মধ্যে থাইরয়েড, জেনেটিক্স চুল পড়ার একটি অন্যতম কারন। আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপের ফলেও চুল পড়া বেড়ে যায়। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার, ঘুমের অভাব, পরিবেশ দূষণের কারনে আমাদের চুল পড়ে যায়।

 

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

আপনার মাথার ত্বকের ধরনটি বুঝে সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও আপনার চুল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একটি ভালো কন্ডিশনার আপনার চুলের জন্য আশ্চর্য কাজ করতে পারে।আপনার চুল পড়া কমাতে সঠিক খাবার প্রোটিন আয়রন এবং সুষম খাবার খেতে হবে। চুল পড়া দূর করতে আপনি যোগব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চুলে কালার,  করা, মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। চুলে নিয়মিত তেল দিতে হবে এবং রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা যাবে না। আর আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন চুলে প্রাকৃতিক বাড়ির তৈরি উপাদান ব্যবহার করা। চুল পড়া চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে ভাল সহজ ও কার্যকারী হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রতিকার।

 

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ঘরোয়া কিছু প্রতিকার

 

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা জেল পুষ্টিকর এবং নিরাময় বৈশিষ্ট্য।অ্যালোভেরা জেল এ রয়েছে প্রচুর পরিমান অ্যান্টি-অক্সিডেনট। অ্যালোভেরা চুল পড়া, খুশকি এবং চুলের বৃদ্ধিতে কার্যকর একটি ঘরোয়া উপায়। এটি চুলের এবং মাথার ত্বকের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। অ্যালোভেরা ত্বকের চুলকানির মত সমস্যা দূর করে। অ্যালোভেরা চুল পড়া কমাতে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে খুবই ভাল কাজ করে।

  • প্রথমে একটি অ্যালোভেরা পাতা থেকে পরিমান মত জেল বের করে নিতে হবে। তারপর আপনি চাইলে জেলের সাথে ডিম, মধু যোগ করতে পারেন।
  • এটি আপনার মাথার ত্বক এবং চুলে ভালোভাবে প্রয়োগ করুন এবং ম্যাসাজ করুন।
  • আপনাকে ৪৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
  • তারপর পানি দিয়ে আপনার চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • আরও ভাল ফলাফল পেতে সপ্তাহে আপনি ৩-৪ বার এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

 

মেথি

মেথি চুল পড়া বন্ধ করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এটি চুলের ফলিকেলগুলো মেরামত করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মেথি আপনার মাথার ত্বকে পুষ্টিও সরবরাহ করে। মেথি আপনার মাথার ত্বক থেকে খুশকি দূর করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। নিয়মিত চুলে মেথি ব্যবহার করলে চুল পড়া নিয়ন্ত্রন হয়। 

  • মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।তারপর ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিতে হবে। 
  • আপনি মেথির সাথে টক দই ব্যবহার করতে পারেন।বাসায় যদি না থাকে তাহলে সারারাত ভিজিয়ে রাখা মেথির পানি পেস্টের সাথে প্রয়োগ করুন।
  • আপনার মাথায় এবং চুলে প্রয়োগ করুন।
  • তারপর আপনার মাথায় শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে নিন যাতে আপনার মাথায় ভালভাবে প্রবেশ করতে পারে।
  • আপনাকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
  • আপনি শ্যাম্পু ব্যবহার না করলেও হবে যদি শ্যাম্পু না করেন তাহলে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।
  • সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।তাহলে নিজের পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।

 

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল নিরাময় বৈশিষ্ট্য,যা মাথার ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। পেঁয়াজে সালফারযুক্ত উপাদান রয়েছে যা চুলের ফলিকিতে রক্ত সঞ্চালনে উৎসাহ দেয়। পেঁয়াজের রস খুশকি দূর করে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। পেঁয়াজের রস একটি দুর্দান্ত কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। পেঁয়াজের রস চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং চুল পড়া রোধ করতে সহায়তা করে। 

  • পেঁয়াজ কেটে নিয়ে রস বের করার জন্য ব্লেন্ডারে দিয়ে রস বের করে নিতে হবে।
  • তারপর একটি বাটিতে পরিমান মত পেঁয়াজের রস নিতে হবে। এবং মাথায় ভালভাবে একটি তুলোর বল দিয়ে প্রয়োগ করুন।
  • আপনার যদি পেঁয়াজের গন্ধ ভালো না লাগে তাহলে পেঁয়াজের রসের সাথে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন।
  • আপনার মাথায় ৪০-৫০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।
  • তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিতে পারেন।
  •  এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন এবং পার্থক্য দেখুন।

 

নারকেল দুধ

নারকেল দুধে প্রচুর পরিমান প্রয়োজনীয় প্রোটিন এবং চর্বি রয়েছে যা চুলের বৃদ্ধিতে এবং চুল পড়া কমাতে খুবই ভাল কাজ করে। নারকেল দুধে প্রচুর পরিমান পটাশিয়ামের মত খনিজ পদার্থ থাকে যেটা চুলের গোঁড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়া দূর করতে সহায়তা করে। নারকেল দুধ চুলে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং চুলকে স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল করে তোলে। 

  • প্রথমে নারকেল দুধ প্রস্তুত করে নিতে হবে।দুইভাবে আপনি নারকেল দুধ তৈরি করতে পারবেন। 
  • আপনি প্রথমে নারকেল কুচি করে নিতে হবে তারপর কুচিগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে তাতে সামান্য পরিমান পানি দিয়ে তা ব্লেন্ড করতে হবে। আপনার বাসায় যদি ব্লেন্ডার না থাকে তাহলে নারকেল সিদ্ধ করে দুধ বের করতে পারবেন।
  • আপনি নারকেল দুধের সাথে মেথি গুঁড়া যোগ করতে পারেন।
  • তারপর মাথার ত্বকে এবং চুলে প্রয়োগ করুন।
  • চুল তোয়ালে অথবা শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
  • তারপর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে।
  • চুল পড়া কমাতে এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে হবে। 

 

মেহেদি পাতা

সর্বাধিক জনপ্রিয় সৌন্দযের মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে মেহেদি। চুল পড়ার জন্য মেহেদি সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি সমাধান বলে আমি মনে করি। আদি কাল থেকেই আমাদের বেশিরভাগ চুলের সমস্যার যত্ন নিচ্ছে এই মেহেদি পাতা। ঐতিহ্যগতভাবে চুলের যত্নের জন্য ব্যবহার করা হয়। মেহেদি প্রাকৃতিকভাবে চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মেহেদি সরাসরি মাথায় ভিতরে প্রবেশ করে চুলের গোঁড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। মেহেদি দুর্দান্ত একটি  প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে চুলকে সিল্কি এবং মোলায়েম করে তোলে। মেহেদি আপনার মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত ময়লা অপসারণ ও খুশকি নিরাময় করে। মেহেদিতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাংগাল রয়েছে যা মাথাকে শীতল করেও চুলকানি দূর করে। এটি চুলের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে। মেহেদি চুলের পুষ্টি সরবরাহ করে চুলের শুষ্কতা, আগা ফাটা রোধ করে এবং চুল ঘন করে ও চুল চকচকে করে তোলে।

  • প্রথমে আপনাকে মেহেদি পাতা পেস্ট করে নিতে হবে যদি মেহেদি পাতা না থাকে তাহলে মেহেদি গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন।
  • এই পেস্টের মধ্যে ১টি ডিম এবং ২চামচ টক দই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
  • এটি আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে প্রয়োগ করুন।
  • এই পেস্টটি আপনার চুলে ৪৫ মিনিট রেখে দিতে হবে।
  • তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • এই হেয়ার প্যাকটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করতে হবে।

 

আমলকী

চুল পড়া বন্ধ করতে আমলকী একটি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার। চুল পড়ার সম্ভাব্য কারনের মধ্যে একটি অন্যতম কারন ভিটামিন সি এর ঘাটতি। আমলকীতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকী ব্যবহার করলে চুলের ফলিকেল গুলি মজবুত হয় এবং চুল পড়া কমাতে সহয়তা করে। আমলকী  বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক্সফোলাইটিং করে প্রদাহ প্রতিরোধ করে। আমলকী চুল ঘন কালো ও মজবুত করে তোলে। আমলকী চুলের বিকাশ বাড়াতে সহায়তা করে এবং একটি স্বাস্থ্যকর মাথার ত্বক বজায় রাখে।

  •  আপনি আমলকীর পেস্টের সাথে মেথি অথবা মেহেদি মিশিয়ে নিতে পারেন।
  • অথবা নারকেল তেলের সাথে আমলকী জাল করতে হবে যতক্ষণ পযন্ত না তেল কালো হয়।
  • তারপর আপনি পেস্টটি ভালোভাবে চুলে প্রয়োগ করুন।
  • আর যদি চুলে তেল প্রয়োগ করেন তাহলে তেলটি অবশ্যই ঠাণ্ডা করে দিতে হবে।
  • মাথায় ভালোভাবে প্রবেশ করার জন্য শাওয়ার ক্যাপ লাগাতে হবে।
  • আপনাকে ৩০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
  • তারপর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন এবং ১ মাসের মধ্যেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।

 

গ্রিন টি

গ্রিন টি অ্যান্টি-অক্সিডেনট সমৃদ্ধ যা চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং চুলের ক্ষতি রোধ করতে সহায়তা করে। গ্রিন টি চুল পড়া রোধে একটি দুর্দান্ত এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। গ্রিন টি মাথার ত্বককে শীতল এবং নির্জীব করে তোলে।এটি এমন প্রাকৃতিক একটি উপাদান চুলকে স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল করে তোলে। এটি চুলের শুষ্কতা ভাব দূর করে চুল সিল্কি করে তোলে।

  • আপনার চুলের পরিমান অনুযায়ী পরিমান মত পানিতে  ২-৩ টি ব্যাগ দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে।
  • তারপর এই দ্রবণটিকে ঠাণ্ডা করে নিতে হবে এবং আপনার মাথার ত্বকে প্রয়োগ করুন।
  • আপনি ৫-১০মিনিট ধরে মাথা ম্যাসাজ করবেন।
  • তারপর পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলবেন।
  • আপনি এটি কন্ডিশনারের পরিবর্তেও ব্যবহার করতে পারেন। 
  • সপ্তাহে এটি দুইবার পুনরাবৃত্তি করুন।

 

টকদই এবং মধু

টকদই চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে পরিচিত। টকদইতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে যা চুলের বৃদ্ধির উন্নতি করতে সহায়তা করে। টকদই ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যুক্ত এটি চুলের জন্য অনেক উপকারী। টকদই মাথার খুশকি দূর করে, চুলকে উজ্জ্বল করে তোলে। টকদই চুলের গোঁড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মধুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা চুলের ক্ষতি রোধ করে। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এটি চুলের গোঁড়া মজবুত করে তোলে এবং চুলের শুষ্কতা দূর করে। মধু চুলকে সিল্কি এবং উজ্জ্বল করে তুলতে সহায়তা করে। 

  • আপনি একটি বাটিতে পরিমান মত টক দই নিয়ে তাতে ২চামচ মধু এবং ১চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে।
  • আপনার চুলে ভালভাবে প্রয়োগ করুন।এই প্যাকটি স্ক্যাল্পে দিতে হবে।
  • তারপর মাথায় শাওয়ার ক্যাপ লাগাতে হবে।
  • আপনাকে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে
  • তারপর চুল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন
  • এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন। 

 

ডিম

ডিম একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উপাদান। এটিতে সালফার এবং সিলিকন রয়েছে যা চুলে পুষ্টি সরবরাহ করে। ডিম এ প্রচুর পরিমান প্রোটিন রয়েছে যা চুলের গোঁড়া  মজবুত হয় এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ডিম চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং চুল পড়া দূর করতে খুবই ভাল কাজ করে। ডিম চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে এবং চুলের আগা ফাটা বন্ধ করে চুলকে সিল্কি করে তোলে। এটি চুলকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে নরম এবং উজ্জ্বল করে তোলে।

  • একটি বাটিতে ১টি ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিন এবং ২চামচ অলিভ অয়েল ১ চামচ মধু যোগ করতে হবে।
  • একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি আপনার মাথার ত্বক এবং চুলে প্রয়োগ করুন।
  • আপনি ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনি এটি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করতে পারেন।এতে ভাল ফলাফল পাবেন। 

 

নারকেল তেল

নারকেল তেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা মাথার ত্বকের সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নারকেল তেল চুলের জন্য সবচেয়ে  পুষ্টিকর খাবার যা চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে করে।

নারকেল তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তোলে এবং চুল পড়া নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। নারকেল তেল চুলে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। নারকেল তেল চুলের আগা ফাটা রোধ করে, চুলের শুষ্কতা ভাব দূর করে চুলকে নরম এবং সিল্কি করে তোলে। নারকেল তেল চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

  • একটি বাটিতে নারকেল তেলের সাথে কালোজিরার তেল ২চামচ এবং অলিভ অয়েল ২ চামচ হালকা গরম করে নিতে হবে।
  • আপনার মাথায় ভালোভাবে প্রয়োগ করুন।
  • আপনার মাথার ত্বকে গোলাকার গতিতে ম্যাসাজ করুন।
  • আপনি মাথায় গরম শাওয়ার ক্যাপ লাগাতে পারেন অথবা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় দিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষন।
  • তারপর তেল চুলে সারারাত এভাবে রেখে দিতে হবে
  • সকালে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে
  • সপ্তাহে এটি ৩বার ব্যবহার করুন।

 

সতর্কতা

  • চুলে গরম পানি এড়িয়ে চলুন ।
  • ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন না।
  • টাইট হেয়ারস্টাইল পড়বেন না।
  • নিয়মিত ঘুমাতে হবে।
  • প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে

 

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে প্রায় সবকিছুই আমরা এই পোষ্টটির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্ঠা করেছি। আমাদের উল্লেখিত এই নিয়ম কানুন গুলো মেনে আপনি যদি আপনার চুলে যত্ন নিতে পারেন, আশা করা যায় ১ মাসের মধ্যেই আপনি ভালো একটা পরিবর্তন লক্ষ করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনার যদি কোন ধরনের টিপস সম্পর্কে জানার থাকে আমাদেরকে কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাতে পারেন। অথবা আমাদের এই পোষ্টটি সম্পর্কে যদি কোন মতামত থাকে তাও জানতে পারেন। আর আমাদের টিপসগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। যাতে করে অন্যরাও উপকৃত হতে পারে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *