চুল কালার করার উপায়
|

ঘরে বসে সহজেই চুল কালার করার উপায়

আপনি যদি সবার কাছে আকর্ষণীয় হতে আপনার চেহেরার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য চুলে কালার করাতে চান। আজকে আমরা বলে দেব ঘরে বসে সহজেই চুল কালার করার উপায়। এক্ষেত্রে আপনি বাড়িতে বসেই চুল কালার করতে পারবেন এতে আপনার সময় এবং অর্থের অপচয় কম হবে। আবার অনেকে পার্লার যাওয়া পছন্দ করে না তাদের জন্য বাড়িতে বসেই চুলে…

আপনি যদি সবার কাছে আকর্ষণীয় হতে আপনার চেহেরার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য চুলে কালার করাতে চান। আজকে আমরা বলে দেব ঘরে বসে সহজেই চুল কালার করার উপায়। এক্ষেত্রে আপনি বাড়িতে বসেই চুল কালার করতে পারবেন এতে আপনার সময় এবং অর্থের অপচয় কম হবে। আবার অনেকে পার্লার যাওয়া পছন্দ করে না তাদের জন্য বাড়িতে বসেই চুলে কালার আমি খুবই ভাল একটি উপায় মনে করি। এরকম অনেকে আছে যাদের পার্লারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার মত সময় হাতে নেই। তাদের সবার উদ্দেশ্যে আমি বলব যে, বাড়িতে বসেই চুল রঙ করতে পারেন। হয়তো আপনার প্রথম দিকে এটি একটি ঝামেলার বিষয় বলে মনে হতে পারে কিন্তু আপনি যদি একবার চেষ্টা করতে পারেন পরবর্তীতে আপনার তা পছন্দের বিষয় হতে পারে। আপনি যদি বেশি ব্যয় না করতে চান তাহলে একবার হেয়ারড্রেসার ক্লিপ ও ব্রাশ কিনে,এটি পরের বার আপনার ব্যয়কে কমিয়ে দেয়।

ঘরে বসে প্রাকৃতিক ভাবে চুল সোজা করার উপায় জানতে ক্লিক করে পড়ে নিন

 

ঘরে বসে চুল কালার করার উপায়

এই পদ্ধতি খুব সহজেই তৈরি করা হয়নি। আমি কয়েকবছর ধরে নিজেও চুলে কালার করেছি এবং আমি সফল হয়েছি। তাই আমি নিশ্চিত হয়ে আপনাদের সাথে এই পদ্ধতি শেয়ার করলাম। আমার মনে হয় এতে আপনারা অবশ্যই উপকৃত হবেন। এই টিপসগুলো ব্যবহার করে আপনারা খুব কম টাকায় চুলে আকর্ষণীয় কালার পাবেন।


বেশি পরিবর্তন করবেন না

চুল রঙ করার এক নম্বর শর্ত কঠোর পরিবর্তন এড়িয়ে চলা। আপনি যেকোনো সময় আপনার চুলের রঙ তিনটি শেডের চেয়ে বেশি পরিবর্তন করাতে চান তাহলে খুবই ভুল করবেন।আপনি যদি  বাড়িতে বসেই দুই শেড বা গাঢ় করার চেষ্টা করতে পারেন তার চেয়ে বেশি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন না।আপনি যদি এর চেয়ে বেশি পরিবর্তন করাতে চান তাহলে অবশ্যয় পার্লারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

 

চুল কালার করার ডিজাইন পছন্দ করুন

দোকানে যাবার পর কেবল একটি চুলের রঙের প্যকেট ধরার ভুল করবেন না।তার পরিবর্তে আপনি সময় নিন।আমি সবসময় বড় স্টোরগুলোতে ডাই কেনার চেষ্টা করি কারন তাদের কাছে শেড এবং ব্র্যান্ডের সর্বাধিক পরিসীমা রয়েছে। আপনি যদি প্যাকেট উপরে মডেলের চুলগুলো পছন্দ করেন তবে আপনার চুল তার মত দেখাবে এমন সুযোগ খুব কম হবে। আপনার প্রধান কাজ হল আপনার স্তরের উপর ভিত্তি করে চুলের রঙ ঠিক করা।

স্কিন টোনের সাথে রঙ মেলাতে একটি দ্রুত প্রাইমার দেওয়া হয়েছে

  • আপনার চোখগুলো যদি নীল বা সবুজ রঙের হয় এবং আপনার ত্বকের টোন যদি শীতল তবে আপনি শীতল শেড পছন্দ করতে পারেন। বেইজ স্বর্ণকেশী, বারগান্দি লাল এসব শেড আপনার ত্বকের সাথে ভাল যেতে পারে।
  • আপনার চোখ যদি বাদামী রঙের হয় তবে আপনার ত্বক সম্ভবত উষ্ণ টোনড।আপনাকে সোনার গহনাতে সেরা দেখায় তাহলে আপনি এই শেডগুলো পছন্দ করতে পারেন।সোনালী বাদামী, গম টোন স্বর্ণকেশী,  আউবার্ন লাল ভাল লাগতে পারে।

 

চুল প্রস্তুত করুন

নোংরা চুলে রঙ করলে সবচেয়ে ভাল কাজ করে, যেহেতু এতে স্লিপড কন্ডিশনার নেই। আপনার চুল সাধারনত ধোয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রঙ করলে ভাল থাকে।এইভাবে,রং স্ট্যান্ডে থেকে যায় এবং ভালভাবে প্রবেশ করতে পারে। আপনি চুলগুলো স্বাভাবিক স্টাইল দিয়ে সর্বদা শুরু করবেন। আপনি চুলে উপরের স্তরে নিখুঁত ভাবে রঙ করার চেষ্টা করবেন।


উপকরণ সংগ্রহ করুন

আপনার প্রয়োজনীয় উপকরণ আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখুন।কারন আপনার প্রয়োজনের সময় যদি  উপকরন হাতের কাছে না থাকে তাহলে আপনার সময় নষ্ট হতে পারে।

 

কালার বক্স 

কালার বক্সআপনার বাড়িতে অবশ্যই কালার বক্স বা রঙের বাক্স আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখবেন।আমার কিছু পছন্দের কালার রয়েছে ক্লেয়ারলের নিস এন ইজি ফোম এবং লরিয়াল কুলিয়র এক্সপেরিয়েনট। যারা নতুন এবং রঙের ব্যাপারে অভিজ্ঞ নয় তারা ট্রাই করে দেখতে পারেন।

  • ব্রাশ
  • প্লাস্টিক গ্লোভস
  • পেট্রোলিয়াম জেলি
  • ঝুঁটি
  • হেয়ারড্রেসার ক্লিপ
  • কন্ডিশনার।

 

হাইলাইট প্রয়োগ করুন

চুলে হাইলাইট করার জন্য পুরনো  টুথব্রাশ বা মাশকারা ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। আপনি চুলকে স্বাভাবিক ভাবে আঁচড়ান এবং তার উপরের অংশটি ক্লিপ করুন। আপনার কানের উপরের অংশ থেকে আলাদা করুন এবং বাইরে টানুন। নিচের স্তরটি হাইলাইট করতে শুরু করেন আপনার কানের ঠিক পিছন থেকে শুরু করেন। এভাবে আপনার মাথার চারপাশে কাজ করুন। আপনার চুলে মাশকারা ব্রাশের ডগা রেখে নিচের দিকে টেনে আনুন। এটি পাতলা হাইলাইট হয় যা প্রাকৃতিক ভাবে সূর্যের আলোর মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।


রঙ প্রয়োগ করুন

চুলের গোঁড়ায় রঙ বসতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।তাই আগে গোঁড়ায় রঙ প্রয়োগ করুন।চুল প্রথমে রঙ করার জন্য ৬-৮ ভাগে ভাগ করুন তারপর আস্তে আস্তে উপরের দিকে রঙ করার চেষ্টা করুন ভালোভাবে হয়ে গেলে তারপর নিচের দিকে চলে যান। পুরো চুলে সমান ভাবে রঙ হওয়ার জন্য চিরুনি দিয়ে ভালভাবে চুল আঁচড়ান। পুরো চুলে হেয়ারড্রেসার ক্লিপ লাগিয়ে নিন। পুরো চুলে রঙ হয়ে গেলে প্যাকেটের নির্দেশাবলি পড়ে আপনি টাইমারটি সেট করতে পারেন। রঙ প্রয়োগ করার জন্য আমার সেরা পরামর্শ হল আপনার সময় নেওয়া। আপনার তাড়াহুড়ো করা যাবে না। ধৈযশীল হওয়ার ফলে আপনার চুলের রঙ হবে আকর্ষণীয়

 

তাপ প্রয়োগ করুন

আপনি  ভাল ফলাফলের জন্য তাপ প্রয়োগ করতে পারেন। তাপ চুলে রঙ উন্নতি করতে সহায়তা করে। আপনি কোন হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করতে পারেন।  আপনার পুরো মাথা তাপ প্রয়োগ করেন ।এভাবে ১০ মিনিট ধরে তাপ প্রয়োগ করবেন।এতে আপনার চুলে ভালভাবে রঙটি বসবে। এই উপায়টি সর্বদা আমকে ভাল ফলাফল দেয়। আশা করি আপনারও মনের মত হবে।

 

শাওয়ার ক্যাপ ব্যবহার করুন 

পুরো মাথা কালার করা হয়ে গেলে একটা শাওয়ার ক্যাপের নিচে চুল আটকে নিন। এতে রঙ বসার জন্য যে ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ওই শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকলে আপনার অনেক সুবিধা হবে।আপনি ওই সময়ে চাইলে অন্য কাজও করতে পারবেন।আরও সুবিধা হল যে রঙ আপনার কোথাও লাগবে না। আর শাওয়ার ক্যাপ পরলে চুলে ভালভাবে রঙ লাগতে পারে।

 

ধুয়ে ফেলুন

আপনার টাইমারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আপনার চুল শ্যাম্পু ব্যবহার না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চুল কখনো ডুবিয়ে ধুবেন না এতে রঙ ছেড়ে দিতে পারে যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আপনি ঝরনাতে ধুয়ে নিতে পারেন। আপনি চুলগুলো স্কাব করুন যাতে মনে হয় আপনি শ্যাম্পু করছেন।এভাবে চুল ধুতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত না পানিতে কোন রঙ না থাকে।তারপর কন্ডিশনার দিয়ে চুল ভালভাবে ধুয়ে নিন। 

শেষ কথা..

আপনার চুলকে যথারীতি স্টাইল করুন এবং ফলাফল্গুলি মূল্যায়ন করুন। আপনার চুল যদি ভেজা থাকে তাহলে আপনে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করুন। তারপর প্রাকৃতিক আলোতে চুলের রঙ দেখুন ঠিক আছে কি না। আশা করি ফলাফল আপনার পছন্দ হবে। আর ভাল ফল পেতে হলে যা ফলো করতে হবে তা হলো:

  • রঙ রিমুভার ব্যবহার করুন
  • ক্লিয়ারিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
  • টোনিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *