খেজুরের উপকারিতা
| |

খেজুরের উপকারিতা ও বিভিন্ন রকম ব্যবহার

খেজুর হলো খেজুর গাছের মিষ্টি, নরম ও সুস্বাদু একটি ফল। খেজুর এর ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Dates। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা নামে পরিচিত। খেজুর মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল। মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় মানুষের জন্য একটি প্রধান ফল। খেজুর বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশে চাষ হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর একটি ফল। স্বাস্থ্যকর উপাদানের কারণে খেজুরের উপকারিতা অনেক…

খেজুর হলো খেজুর গাছের মিষ্টি, নরম ও সুস্বাদু একটি ফল। খেজুর এর ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Dates। এটি বৈজ্ঞানিকভাবে ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা নামে পরিচিত। খেজুর মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল। মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় মানুষের জন্য একটি প্রধান ফল। খেজুর বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশে চাষ হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর একটি ফল। স্বাস্থ্যকর উপাদানের কারণে খেজুরের উপকারিতা অনেক বেশি। হিন্দিতেও খেজুর, খেজুর নামেই পরিচিত। ধারণা করা হয়েছিল খেজুর ইরান থেকে উদ্ভব হয়েছে এবং অনেক আগে মিশরীয়রা খেজুর দিয়ে মদ বানাতো।

 খেজুর নানান রকম স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য এটিকে দৈনন্দিন খাদ্য অন্যতম সেরা উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ দিনে একটি খেজুর খাওয়া স্বাস্থ্যকর এবং খাদ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ সে জুড়ে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, ফাইবার, আইরন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং আঁশের মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খেজুরের উপকারিতা রয়েছে যেমন শক্তি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রক্তশূন্যতা দূর করা হজমে সহায়তা করা বিভিন্ন পুষ্টি ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খেজুর সারাবিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। এই শুকনো ফল গুলো তাদের Anti-inflammatory অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি টিউমার বৈশিষ্ট্যের কারণে বিভিন্ন চিকিৎসার উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে ক্লিক করে পড়ে নিনঃ

হাজার হাজার বছর ধরে খেজুর মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান খাদ্য। আমরা মুসলিমরা খেজুরকে সবচেয়ে পবিত্র বলে মনে করি এবং রমজান মাসে ইফতারের সবচেয়ে প্রধান খাবার এই খেজুর। খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা হয় হাদীসে বলা হয়েছে খেজুর খাওয়া সুন্নাত  আর খেজুর এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক বেশী এজন্য আপনি যেকোন ভাবে খেতে পারেন। খেজুরের জুস,খেজুরের স্মুদি, কেক মাফিনের মত বেকড পণ্যগুলোতে প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে খেজুর ব্যবহার করা হয় কারণ খেজুরকে প্রাকৃতিক চিনি বা মিষ্টি বলা হয়। যেকোনো মুদি দোকান কিংবা ফলের দোকানে পাওয়া যায় তাছাড়া অনলাইনে অর্ডার করতে পারেন খেজুর। তবে বিভিন্ন ধরনের খেজুর রয়েছে মেডজুল, ডেগলেট  নুর এবং আজওয়া খেজুর সবচেয়ে পরিচিত এবং মিষ্টি ও সুস্বাদু অনেক। 


খেজুরের উপকারিতা ও বিভিন্ন রকম ব্যবহার

খেজুরে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ অনেক বেশি। তাজা ফলের তুলনায় খেজুর বেশি ক্যালরি সমৃদ্ধ। বেশি ক্যালরি সমৃদ্ধ হওয়ায় সারাদিন শক্তি সরবরাহ করে ফলে  পুষ্টি উপাদান এর অত্যন্ত উপকারী এই খেজুর। খেজুর শরীরের শক্তি সঞ্চয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।  আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে খেজুর আমাদের স্বাস্থ্যের উপকার করে তাই নিচে খেজুরের উপকারিতা দেয়া হলো। 

 

কোলেস্টেরল কমায়

আপনি কি জানেন যে খেজুর কোলেস্টেরল মুক্ত এবং খুবই কম চর্বি থাকে? খেজুর আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ খেজুর তাৎক্ষণিকভাবে কোলেস্টেরল কমাতে পারে এবং আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। 

 

রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ

খেজুর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরণের এন্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

 

হাড় মজবুত করে

খেজুর কপার, সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ যা আপনার হাড়কে সুস্থ রাখতে এবং হাড় সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ যা হাড় কে বিপাক করতে সাহায্য করে। যারা হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিন খেজুর খেতে পারেন কারণ খেজুর হাড় মজবুত করে। 

 

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি

প্রতিটি খেজুরের রয়েছে কোলিন, ভিটামিন বি যা শেখার এবং স্মৃতিশক্তি জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে আলঝেইমার রোগের শিশুদের ক্ষেত্রে। খেজুর নিয়মিত খাওয়ার ফলে এই রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।  খেজুর প্রদাহ কমাতে এবং মস্তিষ্কের গঠন ফলক রোধ করতে সহায়ক যা আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস সবচাইতে সাধারণ রোগ গুলোর মধ্যে একটি। বেশিরভাগ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করা হয় মৌখিক ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা গেছে খেজুর রক্তের শর্করা এবং চর্বির মাত্রা কমাতে সহায়ক। খেজুর  ইনসুলিনের উৎপাদন বাড়াতে এবং গ্লুকোজের শোষন কমাতে সাহায্য করে। খেজুর ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে করতে সাহায্য করে। 

 

হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে 

প্রতিদিন 2 থেকে 3 টা খেজুর আপনার হৃদরোগের উন্নতি করতে পারে। খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা হাটের দুর্বলতা দূর করে এবং কার্ডিয়াক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হাঁটা স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ ভাবে সংযুক্ত। তাই যারা টাইপ টু ডায়াবেটিস আক্রান্ত তাদের হার্ট অ্যাটাক সহ হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। খেজুর এই দুটি রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এ জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় অবশ্যই খেজুর রাখা উচিত। 


হজমে স্বাস্থ্যের উন্নতি

খেজুরে প্রাকৃতিক ফাইবার বেশি থাকে ১০০ গ্রাম খেজুরে চার গ্রাম থাকে ফাইবার থাকে।এই প্রাকৃতিক ফাইবার অন্ত্রের গতিবিধি নিয়মিত করতে এবং হজমের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। স্বাভাবিক এবং স্বাস্থ্যকর হজমে আপনার শরীর ভালো লিভার কিডনি স্বাস্থ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। নিয়মিত খেজুর খাদ্যতালিকায় রাখলে হজমে সমস্যা দূর হয়। 

 

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

খেজুর সম্পর্কে একটি গভীর গবেষণায় দেখা গেছে খেজুরে বিটা ডি গ্লুকোন নামক এর যোগ এর উপস্থিতি শরীরে টিউমার বিরোধী কার্যকলাপ প্রচারে খুব উপকারী। খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উচ্চ ঘনত্ব ফ্রি রেডিকেল এর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। প্রতিদিন খেজুর  ক্যান্সারের ঝুঁকি কম হয়। 

 

কিডনি রক্ষা করে

খেজুরের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আপনার কিডনিকে কঠিন পরিস্থিতিতে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে। খেজুরের নির্যাস কিডনির অতিরিক্ত প্লাসমা এবং ক্রিয়েটিনিন কমাতেও সাহায্য করতে পারে যা কিডনির সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। 

 

পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতি

খেজুরগুলো যুগ যুগ ধরে একটি দুর্দান্ত খাবার হিসেবে খাওয়া হয়ে আসছে যা পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্য কে সমৃদ্ধ করে। গবেষণায় দেখা যায় খেজুর যৌন শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং গুণগত মান বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

 

মহিলাদের প্রাকৃতিক শ্রম প্রচার

খেজুর গর্ভাবস্থায় মহিলাদের প্রাকৃতিক শ্রম প্রচার করতে সাহায্য করে। খেজুর সার্ভিকাল প্রসারণকে উৎসাহিত করে এবং শ্রমের প্রয়োজন কম করে। তাছাড়া প্রসবের সময় জরায়ু পেশীর স্বাভাবিক সংকোচন নিয়ে আসে। খেজুরে  টানিক নামক যৌগ প্রসবের সময় সংকোচন সহজ করতে সাহায্য করে। 

 

স্নায়তন্ত্রে শক্তি যোগ করে

স্নায়তন্ত্র হলো মূলত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক যা আপনার শরীরকে সচল রাখে। স্নায়বিক সমস্যা গুলো অত্যন্ত বিপদজনক,। কারণ একই সময়ে একাধিক অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। খেজুরে পটাশিয়াম এর মত পুষ্টিতে ভরপুর যা আপনার স্নায়বিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। 

 

ত্বকের উন্নতি করে

ত্বকের যত্নের পণ্যগুলোতে পাওয়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক গুলির জন্য খেজুর খুবই ভাল একটি বিকল্প।  খেজুরে ভিটামিন সি এবং ডি উচ্চ ঘনত্ব নিশ্চিত করে যা আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বল ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি পায়। তাছাড়া খেজুর ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। 


চুল পড়া কমায়

চুল পড়া কমাতে খেজুর খুব ভালো একটি ওষুধ হিসেবে কাজ করে। খেজুরের প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে যা চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। খেজুর আয়রন রক্তপ্রবাহ শক্তিশালী থাকে যা চুলের বৃদ্ধিকে সহজতর করে এবং চুল পড়া কমায়। তাছাড়া চুল ফাটা চুল ভাঙ্গা কম করে চুলকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। 

 

রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে

খেজুর আয়রনসহ অনেক পুষ্টির ভালো একটি উৎস হতে পারে। আয়রনের ঘাটতি রক্তস্বল্পতায় অবদান রাখতে পারে। সৌভাগ্যবশত খেজুরের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। 

 

রাতকানা সমস্যা দূর করে

রাতকানা হওয়ার প্রাথমিক কারণ ভিটামিন এ  এর ঘাটতি।  খেজুরের প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ রয়েছে যা রাতকানার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। বেশি খেজুর খাওয়া অঞ্চলে  রাতকানা হওয়ার ঘটনা বিরল মনে হয়। 

 

হ্যাংওভার মোকাবেলায় সহায়তা করে

যদিও আমরা এটি সঠিক ভাবে চেষ্টা করে দেখি নি তবে বলা হয় খেজুর মদপান নিয়ন্ত্রণের একটি দুর্দান্ত উপায় এবং একইভাবে এটি হ্যাংওভার নিরাময়ে সহায়তা করে। 


ওজন বাড়াতে সাহায্য করে

খেজুর সারারাত পানিতে ভিজিয়ে তারপর খেতে হবে। খেজুরের প্রাকৃতিক চিনি, প্রোটিন এবং অন্যান্য ভিটামিন ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। হাদিসে বলা হয়েছে যে শসার সাথে খেজুর খাওয়া হলে খেজুর আপনার ওজন কে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে। 

খেজুরের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবুও যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি  তাদের অতিরিক্ত খেজুর না খাওয়াই ভালো। কারণ খেজুর কে প্রাকৃতিক মিষ্টি বলা হয় খেজুর অতিরিক্ত মিষ্টি এজন্য পরিমাণমতো খেজুর খাওয়া বা খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। আমাদের যদি  এই টিপস ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে মাধ্যমে আমাদেরকে জানাতে পারেন ধন্যবাদ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *