কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য মলত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সাধারণত একজন ব্যক্তিকে প্রতি সপ্তাহে তিন বা তার বেশি মলত্যাগ করতে হবে। কিছু মানুষ আছে যারা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার পায়খানা করে। আবার কিছু লোক আছে যারা সপ্তাহে দুই বা তার চেয়েও কম পায়খানা করে সাধারণত তাদেরই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তাহলে এই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়…

শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য মলত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সাধারণত একজন ব্যক্তিকে প্রতি সপ্তাহে তিন বা তার বেশি মলত্যাগ করতে হবে। কিছু মানুষ আছে যারা প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার পায়খানা করে। আবার কিছু লোক আছে যারা সপ্তাহে দুই বা তার চেয়েও কম পায়খানা করে সাধারণত তাদেরই কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তাহলে এই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কি?

এখন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রায় বেশিরভাগ মানুষেরই দেখা যায়। এখন কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারন ব্যাপার। আর আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ কিছু উপায় অথবা পায়খানা ক্লিয়ার করার উপায় সম্পর্কে জানার চেষ্ঠা করবো।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে যখন কোলনে মল পদার্থ শক্ত হয়ে যায় এবং মলত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিটি মানুষের জন্য খুবই অস্বস্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক। পেট ঠিকমত পরিষ্কার হয়না  বা টয়লেট অনেক সময় ধরে বসে থাকতে হয়।

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান কি?
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় কি?

এসব অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে। কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে সপ্তাহে দুইবার বা এর চেয়েও কম মলত্যাগ করা। খুবই শুষ্ক মল এবং মলত্যাগ করার সময় খুবই অসুবিধা বা ব্যথা অনুভব করা, মল পাস বা মলত্যাগ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্য সব বয়সের লোকদের হতে পারে তবে বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে গর্ভবতী অবস্থায় এই সমস্যা বেশি হয়।

 

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

বিভিন্ন কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সবচেয়ে কিছু সাধারণ কারণ নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা
  • খাদ্যের মধ্যে আঁশ বা ফাইবারের অভাব।
  • কার্যকলাপের অভাব
  • ডায়াবেটিস
  • হাইপোথাইরয়েডিজম
  • বিভিন্ন ঔষধ সেবনে
  • প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে (পায়খানার চাপ ধরে রাখার) দেরি করা এবং
  • মানসিক চাপ বিষন্নতা উদ্বিগ্নতা কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়

 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। সাধারণত প্রাকৃতিক উপায়ে আপনি এই সমস্যা দূর করতে পারবেন। আপনার বাড়িতে বসে প্রাকৃতিক উপায় কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসা করতে পারবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কোষ্ঠকাঠিন্য জীবনযাত্রার মানের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব সমস্যা দূর করতে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য সেরা কিছু প্রতিকার জানতে এই পোস্টটি ফলো করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ডিহাইড্রেশন কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি সাধারণ কারণ। সুতরাং কীভাবে প্রতিরোধ করবেন জেনে নিন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য সবচেয়ে সহজ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার এর মধ্যে একটি হতে পারে। হাইড্রেট থাকতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে কারণ পানি বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। এমনকি পেটের যেকোনো সমস্যা দূর করতে পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।শুধু পানি নয় দানের পাশাপাশি পানির পাশাপাশি শরবত অথবা জুস খেতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্য জন্য বেলের শরবত কিংবা পেঁপের শরবত খেতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজমে উন্নতি করে এবং মল অনেক নরম করে এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করবেন।

বেশি আঁশ বা ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণ করুন

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা প্রায়ই রোগীদের খাদ্য তালিকায় ফাইবার যুক্ত খাবার বাড়াতে বলেন। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সেরা প্রতিকার বলে মনে করা হয়। আর ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে সামঞ্জস্যতা বৃদ্ধি পায় যা মল ত্যাগ করা সহজ হয় করে তুলে কারণ হজমের উপর বিভিন্ন ধরনের ফাইবার বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে। আমরা বিভিন্ন ধরনের ফাইবার খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারি। যেমন ওটস বাদাম মটরশুটি মসুর ডাল ছোলা সিম সিম ব্রকলি আপেল কলা গাজর ডুমুর লাল আটা বেল পেঁপে ইত্যাদি।

কফি পান করুন

কিছু লোকের জন্য কফি খাওয়া বাথরুমে যাওয়ার তাগিদ বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ কফি পাচনতন্ত্রের পেশিগুলোকে উদ্দীপিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে বিশেষ করে ক্যাফেইন যুক্ত কফি একই ভাবে উদ্দীপিত করতে পারে যেভাবে একটি খাবার করতে পারে। কফি পানির চেয়ে 60 শতাংশ বেশি শক্তিশালী কারন কফিতে অল্প পরিমাণে ফাইবার থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অবশ্যই কফি পান করুন।

দুধ এবং ঘি 

দুধ এবং ঘি এর উপকারিতা দেয় সে সম্পর্কে আমরা অনেক আগে থেকেই জানি। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার। ঘুমানোর আগে গরম দুধ পান করতে পারেন। বিশেষ করে দুধে যখন ঘি যোগ করা হয়। উষ্ণ দুধ পান করার ফলে পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং মল নরম হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।ৎ

লেবু জল পান 

লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড রয়েছে যা আপনার পাচনতন্ত্র কে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে এবং আপনার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে পারে। এটি প্রাকৃতিক কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম হিসেবে কাজ করে। আপনি প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস পানি নিয়ে তাতে লেবুর রস যোগ করুন এছাড়াও আপনি চাইলে চাতে ও লেবু যোগ করতে পারেন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি আদর্শ ঘরোয়া প্রতিকার। এমনকি এটি দীর্ঘমেয়াদি হজমে উন্নতি করতে পারে।

আদা চা

আদা একটি ভেষজ হিসেবে পরিচিত। আদা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করার জন্য প্রাকৃতিক প্রতিকার গুলোর মধ্যে একটি। আদা শরীরের অভ্যন্তরে তাপ সৃষ্টি করে। আদা চায়ের গরম হজমকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে এবং এটি খুবই দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অবশ্যই আপনি প্রতিদিন আদা চা পান করুন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুবই দ্রুত দূর হবে।

নারিকেল জল ও নারিকেল তেল

নারিকেল জল এবং নারিকেল তেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। নারিকেল তেল আপনার অন্ত্রকে লুব্রিকেট করতে সাহায্য করে যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। আপনি যে কোন খাবারে নারিকেল তেল যোগ করতে পারেন। তবে নারিকেল তেল আপনার কাজ করবে কিনা তা ডাক্তারের থেকে জেনে নিতে পারেন।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। অ্যালোভেরা গ্যাস্ট্রিকের এবং হজমের উন্নতির করে যা মল পদার্থকে বা মলকে নরম করে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে অথবা পায়খানা ক্লিয়ার করার উপায় হিসাবে আপনি অ্যালোভেরা জুস খেতে পারেন। এতে আপনার খুব সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হতে পারে।

মধু

মধু পরিপাক স্বাস্থ্যের সহায়তা করে। মধু একটি হালকা রেচক ও বটে ।হালকা কুসুম গরম পানিতে মধু যোগ করুন অথবা চা ও দুধে মধু যোগ করে খেতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

গুড়

গুড় মল নরম করতে সাহায্য করে। গুড়ের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম এর মত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করতে পারে। সন্ধ্যায় গরম জলে এক চামচ গুড় যোগ করে খেতে পারেন এতে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হবে।

মল চেপে ধরে না রাখার অভ্যাস করা

যদি আপনার পায়খানার চাপ আসে তাহলে অবশ্যই দেরি করবেন না কারণ যত বেশি দেরি করবেন তত বেশি মল শক্ত হয়ে যায় এবং মলের পানি সুখে যায় এতে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য অবশ্যই যখনই পায়খানার চাপ আসবে তখনই যত দ্রুত সম্ভব টয়লেটে যাওয়া। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা খুব কম হয়।

কিসমিস

কিসমিসে উচ্চ ফাইবার এবং তার তারিখ তারিখ টারটারিক এসিড রয়েছে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর। কিশমিশের রেচক প্রভাব রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্যের দ্রুত প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।

ইসবগুলের ভুষি

অনেকদিন যাবত নানা ধরনের পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তারা প্রতিদিন ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষির উপকারিতা জানলে আপনি অবাক হবেন। রোগীদের মল নরম করে দেই ফলে সহজেই ইলিমিনেশন সম্ভব হয়। দু’চামচ ইসুবগুলের ভুষি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে অথবা সন্ধ্যায় খেতে পারেন। কিংবা ঘুমানোর আগে কুসুম গরম দুধের সাথে দুই চামচ ইসুবগুলের ভুষি খেতে পারেন।

কোমডে না বসে প্যানে বসা

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের জন্য আমরা প্যানে যেভাবে বসি সেই দেহ দেহভঙ্গি টা পায়খানা করার জন্য সবচেয়ে ভালো। তাই যদি সম্ভব হয় কোমড না প্যান ব্যবহার করা। আর যদি আপনার বাসায় প্যান না থাকে। তাহলে পায়ের নিচে ছোট টুল দিয়ে পা উচু করতে পারেন হাঁটু দুটি কোমরের উপরে উঠাতে পারেন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

পেট মাস্যাজ করতে পারেন

পেট মাস্যাজ করা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি উপকারী প্রতিকার হতে পারে। আপনি দিনে দুবার 10 মিনিটের জন্য করে করে পেট মাস্যাজ করুন। মাস্যাজ এর ফলে মল কে মলদ্বারের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। মাস্যাজ এর আগে গরম পানি অথবা চা পান করবেন এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দ্রুত সেরে যাবে।

ব্যায়াম

নিয়মিত মলত্যাগের জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার কাটা, দড়ি খেলা, সাইকেল চালানো এগুলো ব্যায়াম পাচনতন্ত্র কে সাহায্য করে যা হজম কে উন্নতি করে। ব্যায়াম এর মধ্য দিয়ে অন্ত্রের মধ্যে দিয়ে খাবারের যেতে যে সময় নেই তা কমিয়ে কমিয়ে মলকে নরম করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অবশ্যই নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

 

এগুলো ছিল কোষ্ঠকাঠিন্যের কিছু প্রাকৃতিক প্রতিকার যা আপনাকে স্বস্তিদায়ক এবং চাপ মুক্ত জীবন যাপন করতে সহায়তা প্রদান করে। যদি ঘরোয়া উপায়ে কাজ না হয় তাহলে অনেকদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার পরে যদি ডায়রিয়া শুরু হয়, যদি পায়খানার সাথে রক্ত যায় অথবা পায়খানা কালো হয়, পায়খানার রাস্তায় প্রচন্ড ব্যথা করে কিংবা শরীর অনেক ক্লান্ত লাগে, শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *