মুখে দুর্গন্ধ
|

মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ এবং দূর করার সহজ উপায়

মুখের দুর্গন্ধের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। মুখের দুর্গন্ধ বা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এটা খুবই ভয়ানক ব্যাপার।বিশেষ করে যখন আপনি এটি উপলব্ধি করেন না,অন্য কেউ আপনাকে বলে। কারণ কেউ যদি আপনাকে বলে যে তোমার মুখের দুর্গন্ধ পাচ্ছি এর থেকে বিব্রতকর অবস্থা আর কিছু হতে পারে না। তখন আপনার মনে হবে ❝ওহ শিট,আমার মুখে দুর্গন্ধ হচ্ছে? এটা ভাবার চেয়ে…

মুখের দুর্গন্ধের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। মুখের দুর্গন্ধ বা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এটা খুবই ভয়ানক ব্যাপার।বিশেষ করে যখন আপনি এটি উপলব্ধি করেন না,অন্য কেউ আপনাকে বলে। কারণ কেউ যদি আপনাকে বলে যে তোমার মুখের দুর্গন্ধ পাচ্ছি এর থেকে বিব্রতকর অবস্থা আর কিছু হতে পারে না। তখন আপনার মনে হবে ❝ওহ শিট,আমার মুখে দুর্গন্ধ হচ্ছে? এটা ভাবার চেয়ে স্নায়ু বিধ্বংসী আর কিছু আছে কি?কিংবা নিজের মুখের দুর্গন্ধ নিজেও পান তখন এটা বলাও প্রায়শই কঠিন। তবে কিছু লোকের জিনগত ভাবে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ রয়েছে। এর জন্য অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে সহজেই মুখের দুর্গন্ধ দুর করার উপায় রয়েছে।

 

মুখের দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ কি?

 

১. মুখ শুকিয়ে যাওয়া

আমাদের মুখের ভেতর সাধারণত ভেজা থাকে। কারণ সারাক্ষণ মুখের ভেতর লালা আসতে থাকে এই লালা আমাদের বেশ কয়েকটি উপকার করে থাকে। মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ছোট ছোট খাদ্যকণা মুখ থেকে দূর করে। যেসব জিনিসের জন্য মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় সেসব দূর করে। মুখে পর্যাপ্ত পরিমাণ লালা না থাকে তখন মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। মুখ যাতে সুখে না যায় তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাবেন। অনেক বেশি চা কফি সফট ড্রিংকস খাবেন না। এগুলো তে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এমন খাবার খাবেন যেগুলো বেশি বেশি চিবাতে হয়। যেমন,শসা গাজর,আপেল, পেয়ারা। তাছাড়া চুইংগাম চিবাতে পারেন কিন্তু চিনি ছাড়া হতে হবে।

 

২. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

আমরা যা খাচ্ছি তা অনেক ভাবে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। প্রথমত চিনিযুক্ত খাবার এরিয়ে চলবেন কারণ চিনি যুক্ত খাবার যখন আপনি খান তখন দাতের উপর চিনি লেগে থাকা তখন চিনি হজম করার কাজে লেগে পড়ে কিছু ব্যাকটেরিয়া যা দাঁত কে আক্রমণ করে। বারবার এমন হলে দাঁতে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়। এবং গর্তের মধ্যে খাবার ঢুকে তা পচে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের কারণে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয় তখন শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয় যা মুখের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

 

৩. মুখের ভেতর ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখা

মুখের ভেতরে ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে মুখের ভেতর ছোট ছোট খাদ্যকণা আটকে থাকে যা বের হতে পারে না। তখন মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এজন্য অন্তত দিনে দুইবার ব্রাশ করা,ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা,জিহবা পরিষ্কার করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করা।

 

৪. ধুমপান করা

শরীরে কয়েক ধরনের ক্ষতি করার পাশাপাশি এটা মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে চাইলে অবশ্যই ধুমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৫. মুখের ভেতরের রোগ

আপনার মুখের ভেতরের যদি কোন রোগ থাকে দাঁতের ক্ষয় মাড়ির রোগ সে কারণেও মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। নিজে নিজে চেষ্টা করার পরেও যদি মুখে দুর্গন্ধ থাকে তাহলে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্ট এর পরামর্শ নিতে হবে।

 

৬. অন্যান্য রোগ

দাঁত, মাড়ি ছাড়া অন্যান্য রোগের কারণে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। অন্যান্য রোগ যেমন, নাকেরইনফেকশন,টনসিলের রোগ,পাকস্থলীর সমস্যার কারণে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। কিছু ওষুধের কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে এজন্য মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। এইসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি কারনটা খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারবেন।

 

মুখের দুর্গন্ধের প্রতিকার

 

১. পানি পান করুন

যখনই আপনার মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হবে তখনই বেশি বেশি পানি পান করুন। লালা আপনার মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং দুর্গন্ধ ব্যকটেরিয়াকে বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয়।

 

২.উষ্ণ লবণ পানি দিয়ে মুখ ধোঁয়া

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ বন্ধ করার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায় হল লবন পানিতে গারগল করা।মুখের ভিতরে লবণ পানি ৩০ সেকেন্ডর জন্য রেখে গারগল করা।

 

৩. লবঙ্গ চিবান

লবঙ্গ তাৎক্ষণিকভাবে আপনার নিঃশ্বাস কে সতেজ করে এবং ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। দিনে ৩-৪ টি লবঙ্গ চিবান।

 

৪. আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি দেয়।পানির সাথে ভিনেগার যোগ করে ৩০ সেকেন্ডের জন্য গারগল করুন।

 

৫. ফল ও সবজি খান

আপনি জানেন কি ফল ও সবজি আপনার নিঃশ্বাসকে সতেজ করতে সাহায্য করে?আপেল,পেয়ারা,কমলা, শসা,গাজর,প্রাকৃতিক টুথব্রাশ হিসেবে কাজ করে। আপনার দাঁত থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যকটেরিয়াকে দূর করতে সাহায্য করে।

 

৬. চুইংগাম চিবান

চুইংগাম আপনার মুখের দুর্গন্ধযুক্ত ব্যাকটেরিয়া এবং অবশিষ্ট খাদ্য কণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা মুখ কে সতেজ রাখে। এরপর ও যদি আপনার মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা না যায় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তখন ডাক্তার আপনাকে ঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *