তুলসী পাতার উপকারিতা
|

তুলসী পাতার উপকারিতা এবং বিভিন্ন ব্যবহার

তুলসী একটি ভেষজ উদ্ভিদ এবং তুলসী পাতার উপকারিতা অপরিসীম। তুলসী মানবজাতির কাছে পরিচিত প্রাচীনতম ভেষজগুলির মধ্যে একটি। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা তুলসী একটি জনপ্রিয় ভেষজ। তুলসী পুদিনা পরিবারের একটি ভেষজ। এটি খাবারে স্বাদ যোগ করে এবং এর পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্য এর উপকারিতা প্রদান করে। তুলসী বিশেষ করে ইতালীয় রান্নায় ভূমিকা পালন করে। তুলসী পাতা সালাদ পাস্তা, পিজ্জা এবং…

তুলসী একটি ভেষজ উদ্ভিদ এবং তুলসী পাতার উপকারিতা অপরিসীম। তুলসী মানবজাতির কাছে পরিচিত প্রাচীনতম ভেষজগুলির মধ্যে একটি। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা তুলসী একটি জনপ্রিয় ভেষজ। তুলসী পুদিনা পরিবারের একটি ভেষজ। এটি খাবারে স্বাদ যোগ করে এবং এর পুষ্টিগুণ স্বাস্থ্য এর উপকারিতা প্রদান করে। তুলসী বিশেষ করে ইতালীয় রান্নায় ভূমিকা পালন করে। তুলসী পাতা সালাদ পাস্তা, পিজ্জা এবং অন্যান্য খাবারের স্বতন্ত্র স্বাদ যোগ করে। তুলসী শক্তিশালী ওষুধ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতের তুলসী গাছ খুবই পবিত্র একটি গাছ। এখনো ভারতীয় পরিবারের বাইরে কিংবা ফ্ল্যাটের বাইরে তুলসী গাছ দেখা যায় কারণ পবিত্র তুলসী প্রসাদ আকারে দেবতার কাছে নিবেদন করা হয় এবং তুলসী গাছ দিয়ে পূজা করা হয়। ৫ হাজার বছর আগে থেকে তুলসী চাষ করা হয়। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে তুলসী চাষ বেশি দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে সব জায়গাতে তুলসী চাষ হয়।

তুলসীর বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে যেমনঃ

  1. ইতালিয়ান বা কোঁকড়া তুলসী
  2. পবিত্র তুলসী
  3. মিষ্টি তুলসী
  4. লেবু তুলসী
  5. থাই তুলসী

তুলসীকে পুষ্টির পাওয়ার হাউজ বলা হয় কারণ তুলসীতে ভিটামিন কে ভিটামিন এ ভিটামিন সি ম্যাঙ্গানিজ তামা ক্যালসিয়াম খনিজ আয়রন একটি ভালো উৎস এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

কালোজিরার উপকারিতা ও নানাবিধ ব্যবহার জানতে ক্লিক করে পড়ে নিনঃ

 

তুলসীর ব্যবহার

তুলসী বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায়। তুলসী বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা হয় তুলসী পাতা দিয়ে ডাল রান্না কিংবা পিজ্জা সস পাস্তা পাস্তা আবার কেউ কেউ মসলা হিসেবে ও তুলসী পাতা ব্যবহার করে। আপনি তুলসী চাও খেতে পারেন চায়ের মধ্যে তুলসী পাতা দিয়ে চা তৈরি করা যায়। তুলসী পাতা তেলের সাথে যোগ করা যায় যা বিভিন্ন সাপের বা পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং চুলের যত্নে ও তুলসী তেল ব্যবহার করা হয়।

 

তুলসী পাতার বিভিন্ন উপকারিতাঃ

তুলসী মন এবং শরীরের জন্য বিস্ময়কর ভাবে কাজ করে। তুলসী পেট থেকে শুরু করে ত্বকের যত্নে খুবই উপকারী। বহু বছর আগে থেকে ভেষজ ওষুধ হিসেবে পরিচিত তুলসী কারণ তুলসী বিভিন্ন স্বাস্থ্য চর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে। শুধু স্বাস্থ্য চর্চায় নয় বরং রূপচর্চায় তুলসীর উপকারিতা অনেক রয়েছে। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক তুলসী সেরা কিছু উপকারিতা।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

তুলসী ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে কারণ তুলসীতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে। এগুলোতে বায়ু অ্যাক্টিভ উদ্ভিদ যৌগ রয়েছে যা ত্বকের ক্যান্সার ,ফুসফুসের ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার এবং লিভার ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

আপনার ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই আপনার খাদ্য তালিকায় তুলসী যোগ করুন। কারণ তুলসী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তুলসী খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের তুলসী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুলসী উপস্থিত অপরিহার্য তেল ট্রাই গ্লিসারাইড রয়েছে যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে।

 

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

তুলসী মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তুলসী অ্যাডাপ্টোজেন হিসাবে কাজ করতে পারে। কারণ অ্যাডাপ্টোজেন প্রাকৃতিক ভাবে ঘটে যাওয়া চাপের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং মানসিক ভারসাম্য উন্নত করতে সাহায্য করে। আপনি মানসিক চাপ কমাতে প্রতিদিন তুলসী চা পান করতে পারেন বা পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে ফুটিয়ে পান করতে পারেন এতে দ্রুত মানসিক চাপ কম হয়।

 

জ্বর কম করে

তুলসী পাতা জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া এবং অন্যান্য সংক্রামক বিস্ফোরিত জ্বর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে হয়ে থাকে। জ্বর কমাতে পরিমাণমত পানিতে এলাচ এবং তুলসী পাতা চিনি এবং সাথে দুধ যোগ করতে পারেন এই পানিহাটি পানীয় পান করলে তাপমাত্রা অনেক কমে আসবে এবং ঠাণ্ডা পানিতে পাতা মেশাতে পারেন এটা শিশুদের জ্বর কমাতে সফল।

 

সর্দি কাশি দূর করে

তুলসী সর্দি কাশি দূর করতে খুবই ভালো কাজ করে। তুলসী সমৃদ্ধ একটি খাদ্য অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য এর জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। আবহাওয়া পরিবর্তন শুরু হলে তুলসী অপরিহার্য। কারণ এই সময় বেশিরভাগ মানুষ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। তুলসী সর্দি কাশি এবং ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করে। আপনার কাশি হলে তুলসী পাতা চিবিয়ে খাবেন অথবা তুলসী চা খাবেন।দেখা যাবে খুবই দ্রুত সর্দি কাশি একেবারে সেরে গেছে।

 

হজমের সমস্যা দূর করে

তুলসীতে আন্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নিশ্চিত করে আপনার পাচনতন্ত্রের সুস্থতা। আপনার শরীরের সর্বোত্তম হজম এবং একটি সঠিক পিএইচ ভারসাম্য রয়েছে তা নিশ্চিত করার সাথে সাথে তুলসী আপনার হজমের সমস্যা দূর করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের অনেক উপকার করে। খাবারের পরে বা আগে তুলসী পাতা চিবানোর চেষ্টা করুন। তুলসী পাতা চিবালে পেটের অম্লতা কমে এবং ক্ষারীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে যা হজমের সমস্যা দূর করে।

 

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কম করে

তুলসী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি পাওয়ার হাউস। তুলসী আপনার শরীরে ফ্রিরেডিকেল এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফ্রিরেডিকেল হল কুখ্যাত পরমাণু যা কোষের ক্ষতি করে এবং অনেক স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকিতে ফেলে। তুলসীর অপরিহার্য তেল হতাশা এবং উদ্যোগ পরিচালনা করতেও সাহায্য করে। তুলসী একটি শক্তিশালীঅ্যাডাপ্টটোজেন বা আন্টি স্ট্রেস এজেন্ট হিসেবে পরিচিত।
তুলসী পাতা বিষন্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

 

হৃদ রোগ প্রতিরোধ

তুলসীর ইউজেনল ক্যালসিয়াম চ্যানেল গুলিকে ব্লক করতে পারে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তুলসীর অপরিহার্য তেল আপনার কোলেস্টরেল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে। তুলসীতে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা পেশি এবং রক্তনালী শিথিল করার অনুমতি দেয় এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে সাহায্য করে। এজন্য হৃদ রোগ প্রতিরোধ করতে অবশ্যই প্রতিদিন তুলসী খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। শুধু তুলসী পাতা তুলসী চা ও খেতে পারেন।

 

লিভারের স্বাস্থ্যরক্ষা

তুলসীর শক্তিশালী ডিটক্স বৈশিষ্ট্য আপনার লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে। লিভারের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ। কারণ বিপাক এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুলসী লিভারের চর্বি জমা রোধ করে এবং আপনার লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

 

ব্যথায় ফোলা ভাব কম করে

বাতের ব্যথা থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন ব্যথা দূর করতে দূর করে তুলসী পাতা। এছাড়াও ফোলাভাব দূর করতে তুলসী খুবই কার্যকর।

 

প্রদাহ বিরোধী

তুলসী অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন রোগ এবংব্যাধির নিরাময়ে হিসেবে প্রমাণিত। তুলসীর এনজাইম বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তুলসী প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য আর্থাইটিস হূদরোগ বিভিন্ন ধরনের ফ্লু এবং ঠান্ডা প্রশমিত করতে পারে।

 

দাঁতের চিকিৎসায় তুলসী

দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে তুলসী পেস্ট কিংবা মাউথওয়াশ ব্যবহার করা হয়। তুলসী কে প্রাকৃতিক মাউথওয়াশ বলা হয় যা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও কার্যকর।

 

সাপ পোকামাকড়ের কামড় ঔষধ

তুলসী বিষাক্ত সাপ পোকা মাকড়ের কামড়ের উপশম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত স্থানে তুলসীর রস লাগালে ব্যথা এবং জলা কমে যায় তুলসী।তুলসী এসিড জাতীয় পদার্থ যা বিষের সাথে বিক্রিয়া করে এবং ব্যথা অনেক কম করে এবং দাগ দ্রুত মিশে যায়।

 

ত্বকের যত্নে

তুলসী শক্তিশালী তেল ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য তুলসী চমৎকার একটি ক্লিনজার। এটি ছিদ্রে আটকে থাকা ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। তুলসীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য যা ব্রণ এবং ব্রণের দাগ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে খুবই ভালো কাজ করে। যৌবন ধরে রাখতে অবশ্যই তুলসীর কোন ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন তুলসী পাতা পেস্ট এবং জল চন্দন এবং গোলাপজল একসাথে পেস্ট করে মুখে লাগাতে হবে এবং 20 মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

চুলের যত্নে

চুলের যত্নে তুলসীর অনেক উপকারিতা রয়েছে। তুলসী মাথা ঠান্ডা রাখতে খুবই ভালো কাজ করে। তুলসি চুল পড়া কমাতে এবং চুলের আগা ফাটা রোধ করে এবং চুলের শুষ্কতা দূর করে চুলকে স্বাস্থ্য উজ্জ্বল করে তোলে কোমল করে তোলে।তুলসী পাতার অপরিহার্য তেল চুলকে খুবই দ্রুত বৃদ্ধি করে। এজন্য তুলসীর কোন হেয়ার প্যাক বা হেয়ার অয়েল ব্যবহার করতে হবে। মেহেদির গুড়া সাথে তুলসির পাতা পেস্ট করে মাথায় লাগাতে পারেন। ৪৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এভাবে সপ্তাহে 2 বার ব্যবহার করতে পারেন এতে খুবই ভাল ফলাফল পাবেন।

 

তবে তুলসীর অপকারিতা ও রয়েছে কিছু মানুষের তুলসী আলার্জি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে তুলসীপাতার ব্যবহার না করাই ভালো। গর্ভবতী কিংবা স্তন্যপান করানোর সময় তুলসী না খাওয়াই ভালো। তাছাড়াও তুলসী ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *