ই-পাসপোর্ট
| |

ই-পাসপোর্ট কি? ই পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে বিভিন্ন দেশে পা রাখতে চাইলে সর্বপ্রথম যে ডকুমেন্টসের প্রয়োজন পড়বে সেটি হলো ই-পাসপোর্ট। সরাসরি অফলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন এবং চেক করার ব্যাপারে আমরা মোটামুটি সকলেই জানি! কিন্তু আমরা কি জানি অনলাইনে ঘরে বসেও আজকাল এই পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদন করার কাজ সেরে ফেলা যায়? জ্বি! ঠিকই জেনেছেন! আজ আমরা আলোচনা করবো…

দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে বিভিন্ন দেশে পা রাখতে চাইলে সর্বপ্রথম যে ডকুমেন্টসের প্রয়োজন পড়বে সেটি হলো ই-পাসপোর্ট। সরাসরি অফলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন এবং চেক করার ব্যাপারে আমরা মোটামুটি সকলেই জানি! কিন্তু আমরা কি জানি অনলাইনে ঘরে বসেও আজকাল এই পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদন করার কাজ সেরে ফেলা যায়? জ্বি! ঠিকই জেনেছেন! আজ আমরা আলোচনা করবো কিভাবে অনলাইনে খুব সময়ে ই-পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে নেওয়া যায়।

 

ই-পাসপোর্ট কি?

ই-পাসপোর্ট হলো একটি মেশিন রিডেবল ডকুমেন্টস। সহজ কথায় বলতে গেলে এটি মূলত এটিএম কার্ড ও চেক বইয়ের মতো। ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো প্রোসেসর চিপ লাগানো ই-পাসপোর্টের সাহায্যে আপনি রিয়েল ই-পাসপোর্টের কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট মূলত পাসপোর্টের ডিজিটাল কপি।

২০১৯ এর দিকে মানুষ এই ই-পাসপোর্ট শব্দটির সাথে নিজেকে পরিচিত করিয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের দিকেই ই-পাসপোর্ট চালু করার কথা থাকলেও বেশ কিছু সমস্যার কারণে সেই তারিখ পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে মুজিব বর্ষ ২০২০ এর অন্যতম নতুন সংযোজনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে যুক্ত হয় এই ই-পাসপোর্ট সুবিধা বা ই-পাসপোর্টের চল।


ই পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি?

ই-পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে বেশকিছু ডকুমেন্টসের প্রয়োজন পড়ে। যিনি ই-পাসপোর্টের আবেদন করছেন মূলত সেই ব্যাক্তি সম্পর্কিত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজের প্রয়োজন পড়ে। এই পর্যায়ে আমরা জেনে নিবো ই-পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি সে সম্পর্কে।

  1. সবার আগে অনলাইন ই-পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে আবেদন করতে হবে। যেখানে মূলত একজন আবেদনকারী হিসেবে আপনাকে একটি ফরম ফিল আপ করতে হবে।
  2. পূরণ করা সেই অনলাইন ফরমটিকে সাথে করে কোনো ডিজিটাল স্টুডিওতে গিয়ে তা প্রিন্ট-আউট করে নিতে হবে।
  3. প্রিন্ট করা সেই ফরমের সাথে এবার আপনাকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এড করতে হবে৷
  4. এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবির সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং ব্যাংকের জমার রশিদ যুক্ত করে নিতে হবে।
  5. তবে যারা ১৮ বছরের নিচে এবং এখনই পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে নিতে চাচ্ছেন তারা জন্মসনদ এবং পিতামাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এড করে নিবেন।
  6. সবশেষে আপনার তথ্য আদায়ের জন্য বাড়তি কিছু ডকুমেন্টস যেমন ঠিকানা, জন্মসনদ, এনওসি কার্ড, অফিস আইডি কার্ড ইত্যাদি এড করে নিবেন।



ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন কিভাবে করে?

এই পর্যায়ে আমরা জানবো কিভাবে ঘরে বসেই অনলাইন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যায় সে-সম্পর্কে!

  1. আবেদন করার প্রথম ধাপে আপনাকে https://www.epassport.gov.bd/landing এই ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে হবে।
  2. এবার ডিরেক্টলি টু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনে (Directly to online application) ট্যাপ করতে হবে।
  3. পরের ধাপে একটু খেয়াল করলে দেখবেন বর্তমান ঠিকানার জেলা শহরের নাম ও থানার নাম সিলেক্ট করার সুযোগ রয়েছে এবং আপনাকেও এই ধাপটি সঠিকভাবে শেষ করতে হবে।
  4. এবার আপনার সামনে একটি ফরম ওপেন হবে। যেখানে অনলাইন বা ই-পাসপোর্ট আবেদনের সকল গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাক্তিগত তথ্য চাওয়া হবে। ফরমটি ঠিকঠাকমতো পূরণ করে সবকিছু ওকে করুন।
  5. এই পর্যায়ে আপনাকে ফি দিতে হবে। যা প্রতিটি অনলাইন পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য! বলে রাখা ভালো যে-কেউ ঘরে বসেই ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারবেন।
  6. পেমেন্ট পে করার পর ব্যাংকিং ডকুমেন্টস হিসেবে একটি স্লিপ দেওয়া হবে আপনাকে। সেটি কালেক্ট করে তার একটি ইমেইজ সাবমিট করতে হবে।
  7. স্লিপ প্রদানের সাথে সাথেই আপনার যাবতীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাক্তিগত তথ্য সার্ভারে পৌঁছে যাবে এবং সেগুলি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলবে।
  8. এই সময়টাতে আপনাকে আরো একটি কাজ সারতে হবে। সেটি হলো এনআইডি বা আইডি কার্ড নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া এবং বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সঠিক তথ্য প্রদান করা।

সবশেষে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। যখনই পাসপোর্ট রেডি হয়ে যাবে তখনই আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং আপনি তা সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কালেক্ট করে নিবেন। আশা করি ঘরে বসে কিভাবে সহজ পদ্ধতিতে অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয় তা বুঝতে পেরেছেন।

 

ই-পাসপোর্ট করার খরচ কত?

ই-পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রর প্রতিবারই আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হবে। যা ব্যাতিত ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যাবে না। মূলত -পাসপোর্টের সর্বোচ্চ ফি ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। যারা এই পাসপোর্ট সরাসরি বিদেশ থেকে তৈরি করিয়ে নিতে চান তাদের ক্ষেত্রেও ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ১০০ ডলার হিসেবে ধরা হয়েছে। বলে রাখা ভালো এতে কোনো ভ্যাট সংযুক্ত হবে না।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতিজরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতিজরুরি ফি ৯০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


ই পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

অনলাইনে ই-পাসপোর্ট চেক করার কাজটি ঘরে বসেই করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে। এই পর্যায়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক ই-পাসপোর্ট চেক করার সঠিক নিয়মগুলি কি কি হতে পারে।

  • গুগলে গিয়ে সার্চ করুন Check your E-passport application 
  • প্রথম যে পেইজটি আসবে সেটিতে ক্লিক করে অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন আইডিটি বসিয়ে নিন৷ 
  • যারা অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন আইডি পাচ্ছেন না বা ব্যবহার করতে চাচ্ছেন না তারা চাইলে অ্যাপ্লিকেশন আইডিও ব্যবহার করতে পারেন। 
  • পাসপোর্টে যে জন্ম তারিখ এবং সাল লিখেছেন এখানেও সেই সময়টি সঠিকভাবে বসিয়ে নিন। 
  • রোবট নন তা প্রমাণ করতে ক্যাপচা পূরণ করুন।
  • চেক বাটনে ক্লিক করে আপনার নতুন ই-পাসপোর্টের বর্তমান পরিস্থিতি চেক করে নিন। 

 

ই-পাসপোর্ট রিনিউ করবো কিভাবে?

আপনি যদি আপনার পাসপোর্টটিকে এখনো ই-পাসপোর্টের পরিণত না করেন থাকেন তবে দ্রুত আপনাকে পাসপোর্ট রিনিউ করে নিতে হবে। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম এবং ব্যবহার চালু হয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

ই-পাসপোর্ট রিনিউ করতে বেশকিছু কাগজপত্রের দরকার পড়ে। এগুলি হলো জন্ম সনদ, মূল আবেদনের রঙিন কপি, পুরাতন পাসপোর্টের একটি ফটোকপি, একটি ব্যাংকের রশিদ যেখানে আপনি পাসপোর্ট তৈরির ফি প্রদান করেছিলেন।

ই পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম

  • স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
  • অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে জেলা ও থানার নাম ঠিকঠাকমতো বসাতে হবে।
  • ই-পাসপোর্ট রিনিউ ফরম পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে হবে।
  • ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করে নির্দিষ্ট ফি অনলাইনে কিংবা ব্যাংকে গিয়ে জমা দিতে হবে।
  • এবার নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
  • শেষ ধাপে সরাসরি পাসপোর্ট অফিস হতে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করে নিতে হবে।

অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার কথা চিন্তা-ভাবনা করছেন। এক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র এমআরপি রিনিউ করলেই চলবে। একটি ফরম পূরণ করে সেই দেশের হাই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে সহজেই আপনি কাজটি সেরে নিতে পারেন।



পুরো আর্টিকেল জুড়ে ই-পাসপোর্ট বিষয়ক প্রায় প্রতিটি খুঁটিনাটি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করেছি। আশা করি পুরোটা পড়ে আপনি একটি সঠিক গাইডলাইন সম্পর্কে জেনে নিতে পেরেছেন। পরবর্তী আর্টিকেল পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *